আফগানিস্তানের কাছে লজ্জার এক হার বাংলাদেশের। তবে ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকলে তো হবে না, এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। টেস্ট ভুলে তাই এখন টাইগারদের সব মনোযোগ আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সিরিজকে সামনে রেখে ১৩ সদস্যের দলও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে ডাক পেয়েছেন ২০ বছর ৩৩৭ দিন বয়সী নোয়াখালীর লম্বা পেসার ইয়াসীন আরাফাত মিশু। এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি না খেলা মিশু কয়েকদিন ধরেই খেলছেন 'এ' দল ও 'এইচপি' দলের হয়ে। কিছুদিন আগেও শ্রীলঙ্কা এইচপি দলের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি।
তবে কি দেখে তাকে বড় মঞ্চে তুলে আনতে চাইছেন নির্বাচকরা? কিছু একটা তো তারা দেখেছেনই! মিশু আসলে প্রথম নজরে আসেন গত বছর। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, যা লিস্ট ‘এ’তে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।
ওই এক ম্যাচই জীবন ঘুরিয়ে দিয়েছে মিশুর। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার ডানহাতি এই পেসার তখন থেকেই নির্বাচকদের নজরে। অবশেষে ডাক পেলেন টি-টোয়েন্টিতে, অভিষেক হওয়ারও জোর সম্ভাবনা আছে।
মিশুর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। পড়ালেখা ফাঁকি দিয়ে চলে যেতেন খেলার মাঠে। তার ক্রিকেটের প্রতি এমন আগ্রহ প্রথম চোখে পড়ে গৃহশিক্ষকের। তিনিই তার বাবা মাকে পরামর্শ দেন ছেলেকে বিকেএসপিতে পাঠানোর। পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ভর্তি হন মিশু। সেখান থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসা।
এবার কম বয়সেই তার অভিষেক হয়ে যেতে পারে জাতীয় দলে। পরের কাজটা কিন্তু করতে হবে মিশুকেই। দেখিয়ে দিতে হবে, হারিয়ে যেতে আসেননি। যাকে আদর্শ মানেন, সেই মাশরাফি বিন মর্তুজার মতোই বিশ্ব ক্রিকেট কাঁপিয়ে দিতেই এসেছেন।
১৩ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াড : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, শেখ মেহেদি হাসান, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত মিশু।

