পাঁচ বছরে কোকাকোলা কোম্পানি বাংলাদেশে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা (২০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বৃহস্পতিবার কোকাকোলার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অপারেটিং অফিসার ব্রেইন জন স্মিথ এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বিদ্যমান সম্পূরক ও মূল্য সংযোজন কর কমানোর দাবি জানান।
বিপরীতে অর্থমন্ত্রী কোকাকোলাকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারে নিবন্ধনের পরামর্শ দেন। কোকাকোলার প্রস্তাব বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
মুস্তফা কামাল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ নেয়ার মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। কোকাকোলার উচিত বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করা। পাশাপাশি তরুণ ও বর্ধমান জনসংখ্যার সুযোগ নেয়া। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চীন, ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। ২০৩২ সালে পৃথিবীতে এক নম্বর দেশ হবে চীন, দুই নম্বর হবে আমেরিকা, তিন নম্বর হবে ইন্ডিয়া, চার নম্বর হবে জাপান এবং পাঁচ নম্বর হবে জার্মানি। চীন, ভারত ও জাপান- এ তিন বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সুতরাং কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশকে এড়িয়ে বিশ্বের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
