লর্ডস যে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যে দুটো দল ফাইনালে খেলছে, তারা আগে কেউ বিশ্বকাপ জেতেনি। কে ভেবেছিল নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও এক বার ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড। মর্গ্যানরা অবশ্যই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, লর্ডসে ইংল্যান্ডের রেকর্ড সে রকম ভাল নয়। নিউজ়িল্যান্ডও নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটা জানে।

এর আগে তিন বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়নের সিংহাসনে বসতে পারেনি ইংল্যান্ড। ডেভিড গাওয়ার, মাইক গ্যাটিং, গ্রাহাম গুচরা ১৯৭৯, ১৯৮৭ বা ১৯৯২ সালে যা করতে পারেনি, তা অইন মর্গ্যানের দল কি ২০১৯ সালে করতে পারবে? 

বিশ্বকাপ ফাইনালের ভাগ্য সম্ভবত নির্ভর করে থাকবে ইংল্যান্ড ব্যাটিং বনাম নিউজ়িল্যান্ড বোলিংয়ের লড়াইয়ের উপরে। একের বিরুদ্ধে এক হিসেবে যদি দেখেন, তা হলে নিউজ়িল্যান্ডের থেকে অনেক এগিয়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু এই বিশ্বকাপ অনেককেই চমকে দিয়েছে।

প্রথম সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের ভাগ্য ভাল ছিল বলে বেরিয়ে গিয়েছে। নিউজ়িল্যান্ড যতটা খারাপ ব্যাট করেছে, ভারত তার চেয়েও খারাপ করেছে। ম্যাচটা ভারতের মুঠোয় ছিল। নিজেরাই নিজেদের ডুবিয়ে দিল ভারত। ইংল্যান্ড ওদের এতটা ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। কেন উইলিয়ামসন ব্যাপারটা জানে। নিউজ়িল্যান্ডকে কাপ দিতে গেলে জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলতে হবে উইলিয়ামসনকে। নিউজ়িল্যান্ড অধিনায়ককে বাদ দিলে রস টেলর এবং মার্টিন গাপ্টিলের দক্ষতা আছে ইংল্যান্ডের এই বোলিং সামলানোর। সমস্যা হল, গাপ্টিল আবার জঘন্য ফর্মে রয়েছে। 

নিউজ়িল্যান্ডের একটাই রাস্তা আছে জেতার। স্কোরবোর্ডে একটা ভাল রান তুলে বোল্ট, হেনরি, লকি ফার্গুসনকে দিয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করতে হবে একেবারে প্রথম বল থেকে। শুরুতে উইকেট নিতেই হবে বোল্টকে। না হলে নিউজ়িল্যান্ডের জেতার কোনও সম্ভাবনাই নেই। এমনিতে ম্যাচটা ৮০ শতাংশই ইংল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে।