ঈদুল ফিতরের মতো আসছে ঈদুল আজহায়ও সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।  প্রতিমন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ৫৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিপিডিবি ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আসছে ঈদুল আজহায় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। পাওয়ার সেক্টরগুলো দেশে প্রফেশনালি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, শুধু শহরগুলোতেই নয়, গ্রামগুলোতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতীতেও সঙ্গে ছিল আগামীতেও থাকবে। দেশে ছেলেধরা নামে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে চুক্তিসই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, দেশে ছেলেধরা নামে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব গুজবে কেউ কান দেবেন না। এ সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ১৯ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে এ প্রকল্প। ব্যয় হবে ৫২০ মিলিয়ন ডলার। প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল এই বিদ্যুৎকেন্দ্র এলএনজিতেও চলবে। এটি হবে দেশের অন্যতম সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, যারা গ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি জিই টার্ন-কি বেসিসে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী তিন বছরের মধ্যে এই চুক্তি বাস্তবায়ন হবে অথবা কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে। চুক্তির মেয়াদ ২২ বছর। এই দিন প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও গ্যাস সরবরাহ চুক্তি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন, ইউএমপিএলের চেয়ারম্যান নূর আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী নাফিজ সরাফতসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।