ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গতকাল রবিবার সার্বিকভাবে দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম করেছে আরো কয়েকটি নদী। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে রয়েছে বন্যাদুর্গতরা।
একাধিক স্থানে ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের এক শ ফুট ধসে গেছে। লালমনিরহাটে তিস্তার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য জরুরি খাদ্য ও নগদ সহায়তার উদ্যোগ নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
বান্দরবানে বিভিন্ন বাসাবাড়ির দোতলা পর্যন্ত ডুবে গেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে পাহাড়ধস ও খালে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে তিনজন। কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে এক দম্পতি। জামালপুরে বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে এক শিশু।
ভারি বর্ষণের সময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে এক দম্পতি। তাঁরা হলেন ওই এলাকার মৃত রবিউল আলমের ছেলে দিনমজুর আনোয়ার ছাদেক (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী ওয়ালিদা বেগম (২২)। গতকাল ভোররাত ৩টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পাহাড়ি এলাকা বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বমুরকূল এলাকায়।
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১১৩টি গ্রামের নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার চারটি উপজেলার বেশির ভাগ এবং দুটি উপজেলার আংশিক প্লাবিত হয়েছে। বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে। অনেক এলাকার সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।
