গত ৩০ জুন চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর থেকে মাত্র ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। শেয়ারের মূল্যমান কমে যাওয়ায় প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা থেকে ডিএসইর বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে গতকাল এক দিনেই ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যমান ৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা কমে বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। লেনদেনযোগ্য শেয়ারসংখ্যার সঙ্গে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বাজারমূল্যের গুণফলই বাজার মূলধন। বাজার মূলধনের পাশাপাশি একই সময়ে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বা ৪৫৬ পয়েন্ট কমে গেছে। তার মধ্যে গত দুদিনেই কমেছে ১৬৫ পয়েন্ট।

গত দুদিনে শেয়ারবাজারের সূচক যেভাবে কমেছে সেটিকে ‘ফ্রি ফল বা লাগামহীন পতন’ বলে অভিহিত করেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীরা যখন আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তখন এ ধরনের পতন ঘটে।  গতকাল লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ১০০ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। তাতে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে অনেক কোম্পানির শেয়ার। এ সময় পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে ফোন করে শেয়ার কেনার অনুরোধ জানানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ অনুরোধে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সাড়া দেয়। তাতে সূচক কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পতন থামেনি।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে যখন বড় ধরনের পতন ঘটে, তখন আতঙ্কিত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হাতে থাকা শেয়ার কার আগে কে বিক্রি করবেন, সেই চেষ্টা করেন। তাই গতকাল লেনদেনের শুরুর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। যদিও পরে সেই পতনের মাত্রা কিছুটা কমানো গেছে।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী আরও বলেন, বাজারের এ পতনের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। বাজেটে সরকার তালিকাভুক্তি কোম্পানিগুলোর বোনাস লভ্যাংশ নিরুৎসাহিত করতে বাড়তি করারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলে বোনাস লভ্যাংশ নিষিদ্ধ করেছে বিএসইসি। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ দীর্ঘ মেয়াদে বাজারের জন্য ভালো। কিন্তু ভুল সময়ে এসব পদক্ষেপ নেওয়ায় বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত ২১ মে বিএসইসি কোম্পানির উদ্যোক্তাদের পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয়, যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। গত ৩০ জুন হিসাব বছর শেষ হয়েছে এমন ৩৬টি কোম্পানি আছে, যারা বিএসইসির এ নির্দেশনার কারণে এবার বোনাস ঘোষণা করতে পারবে না।