দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম ব্যক্তির জন্য ফরজ ওয়াজিব নামাজ বসে পড়া সহিহ নয় (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৫০)

দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম ব্যক্তির জন্য নফল নামাজ বসে পড়া জায়েজ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৪৯)

যে ব্যক্তি বসে নামাজ পড়বে সে তাশাহহুদের মতো করে বসবে (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : /৫২৭)

দাঁড়িয়ে নফল নামাজ শুরু করা ব্যক্তি বসে তা পরিপূর্ণ করতে পারে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই (সহিহ বুখারি, হাদিস : /২৭৪)

বাহনের (পশু হলে, যেমন ঘোড়ার) ওপর ফরজ নামাজ সহিহ হয় না (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩৫)

বাহনের ওপর ওয়াজিব নামাজ সহিহ হয় না (তাহাবি : /২৫৯) সুতরাং বিতর নামাজ, মানতের নামাজ এবং এমন নফল নামাজ, যার কাজা ওয়াজিব হয়েছে ইত্যাদি নামাজ বাহনের ওপর পড়া জায়েজ হবে না (তাহাবি : /২৫৯; ইবনে আবি শায়বা : /৩০৩)

নামাজির কোনো অপারগতা থাকলে, যেমনবাহন থেকে নামলে দুশমনের ভয় আছে, অথবা কোনো জন্তুর হামলার ভয়, অথবা বেশি কাদা ইত্যাদি অবস্থায় ফরজ-ওয়াজিব সবই বাহনের ওপর পড়া যাবে তেমনি যে ব্যক্তি নিজে বাহনে চড়তে পারে না, বরং তাকে উঠিয়ে দিতে হয়, এমন ব্যক্তির জন্যও এই বিধান (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৪৪)

সুন্নতে মুয়াক্কাদা বাহনের ওপরও জায়েজ (সহিহ বুখারি,হাদিস : ১০৪৯) তবে ফজরের সুন্নত এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা ওয়াজিবের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত কারণ এই সুন্নতগুলোর গুরুত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি (মুসলিম, হাদিস : ১১৯৩)

শহর বা বাইরে বাহনের ওপর নফল নামাজ পড়া হলে তা ইশারার মাধ্যমে পড়া বৈধ, বাহন যেদিকে যাবে যাক (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩৪; মুসনাদে আহমাদ : ১৫১১৩)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কোনো ওজর ছাড়াও জাহাজের ওপর বসে নামাজ পড়া জায়েজ (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৫৭০২)

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, কোনো ওজর ছাড়া জাহাজে বসে নামাজ পড়া জায়েজ নেই (দারাকুতনি, হাদিস : ১৪৯)

রুকু-সিজদায় সক্ষম ব্যক্তির জন্য জাহাজে ইশারা করে নামাজ পড়া সহিহ নয় (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৫০)

যদি জাহাজ কিনারায় বাঁধা অবস্থায় থাকে, তখন দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম ব্যক্তির জন্য বসে নামাজ পড়া জায়েজ নেই

জাহাজ থেকে স্থলে আসতে অপারগ হলে জাহাজে নামাজ পড়া জায়েজ; চলন্ত অবস্থায় হোক বা নোঙর করা অবস্থায় হোক (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৫৭০২; ইবনে আবি শায়বা : /২৬৭)